তোমাকে চাই । তোমাকে চাই (১৯৯২) এ্যলবাম | কবীর সুমন

কবীর সুমনের তোমাকে চাই এ্যলবাম ১৯৯২

তোমাকে চাই গানটি কবীর সুমনের “তোমাকে চাই” অ্যালবামে ১৯৯২ সালে প্রকাশিত একটি বাংলা গান। এই গানটি প্রযুক্তির বেশ কয়েকটি নতুন ফর্ম ব্যবহার করেছে। “তোমাকে চাই” অ্যালবামের প্রথম গান ( তখন ক্যাসেট বের হতো, দুই পাশ মিলিয়ে মোট ১২ টি গান ছিল)। এটি শিল্পীর প্রথম একক অ্যালবামও বটে। এই গানটি (অ্যালবামের সাথে) প্রায়শই মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত হয় এবং এটি বাংলা সঙ্গীতকে চিরতরে বদলে দেয়। এই আইকনিক গানটি প্রাথমিকভাবে একজন মহিলার দিকে লেখা হয়েছে বলে মনে হলেও কয়েক লাইন শোনার পরেই বোঝা যায় এই প্রেম আসলে শহরের জন্য, সুমনের কলকাতার প্রতি ভালবাসার দ্বারা দ্রুত ছায়া হয়ে যায়।

তোমাকে চাই । তোমাকে চাই (১৯৯২) এ্যলবাম | কবীর সুমন
কবীর সুমন, Kabir Suman

তোমাকে চাই

প্রথমত আমি তোমাকে চাই
দ্বিতীয়ত আমি তোমাকে চাই
তৃতীয়ত আমি তোমাকে চাই
শেষ পর্যন্ত তোমাকে চাই

নিঝুম অন্ধকারে তোমাকে চাই
রাতভোর হলে আমি তোমাকে চাই
সকালের কৈশোরে তোমাকে চাই
সন্ধের অবকাশে তোমাকে চাই

বৈশাখী ঝড়ে আমি তোমাকে চাই
আষাঢ়ের মেঘে আমি তোমাকে চাই
শ্রাবণে শ্রাবণে আমি তোমাকে চাই
অকালবোধনে আমি তোমাকে চাই

Kabir Suman কবীর সুমন 18 তোমাকে চাই । তোমাকে চাই (১৯৯২) এ্যলবাম | কবীর সুমন
কবীর সুমন, Kabir Suman

কবেকার কলকাতা শহরের পথে
পুরোনো নতুন মুখ ঘরে ইমারতে
অগুন্তি মানুষের ক্লান্ত মিছিলে
অচেনা ছুটির ছোঁয়া তুমি এনে দিলে
নাগরিক ক্লান্তিতে তোমাকে চাই
এক ফোঁটা শান্তিতে তোমাকে চাই
বহুদূর হেঁটে এসে তোমাকে চাই
এ জীবন ভালোবেসে তোমাকে চাই

চৌরাস্তার মোড়ে পার্কে দোকানে
শহরে গঞ্জে গ্রামে এখানে ওখানে
স্টেশন টার্মিনাস ঘাটে বন্দরে
অচেনা ড্রয়িংরুমে চেনা অন্দরে
বালিশ তোশক কাঁথা পুরোনো চাদরে
ঠান্ডা শীতের রাতে লেপের আদরে
কড়িকাঠে চৌকাঠে মাদুরে পাপোশে
হাসি রাগ অভিমানে ঝগড়া আপোসে
তোমাকে চাই, তোমাকে চাই, তোমাকে চাই, তোমাকে চাই
এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই
ডাইনে ও বাঁয়ে আমি তোমাকে চাই
দেখা না দেখায় আমি তোমাকে চাই
না-বলা কথায় আমি তোমাকে চাই

কবীর সুমন, Kabir Suman
কবীর সুমন, Kabir Suman

শীর্ষেন্দুর কোন নতুন নভেলে
হঠাৎ পড়তে বসা আবোলতাবোলে
অবোধ্য কবিতায় ঠুংরি খেয়ালে
স্লোগানে স্লোগানে ঢাকা দেয়ালে দেয়ালে

সলিল চৌধুরীর ফেলে আসা গানে
চৌরাশিয়ার বাঁশি মুখরিত প্রাণে
ভুলে যাওয়া হিমাংশু দত্তর সুরে
সেই কবেকার অনুরোধের আসরে
তোমাকে চাই, তোমাকে চাই, তোমাকে চাই, তোমাকে চাই

অনুরোধে মিনতিতে তোমাকে চাই
বেদনার আর্তিতে তোমাকে চাই
দাবীদাওয়া চাহিদায় তোমাকে চাই
লজ্জাদ্বিধায় আমি তোমাকে চাই

অধিকার বুঝে নেওয়া প্রখর দাবীতে
সারারাত জেগে আঁকা লড়াকু ছবিতে
ছিপছিপে কবিতার ছন্দে ভাষায়
গদ্যের যুক্তিতে বাঁচার আশায়
শ্রেণীহীন সমাজের চির বাসনায়
দিনবদলের খিদে ভরা চেতনায়
দ্বিধাদ্বন্দের দিন ঘোচার স্বপ্নে
সাম্যবাদের গান ঘুমে জাগরণে
বিক্ষোভে বিপ্লবে তোমাকে চাই
ভীষণ অসম্ভবে তোমাকে চাই
শান্তি অশান্তিতে তোমাকে চাই
এই বিভ্রান্তিতে তোমাকে চাই

প্রথমত আমি তোমাকে চাই
দ্বিতীয়ত আমি তোমাকে চাই
তৃতীয়ত আমি তোমাকে চাই
শেষ পর্যন্ত তোমাকে চাই

Kabir Suman কবীর সুমন 20 তোমাকে চাই । তোমাকে চাই (১৯৯২) এ্যলবাম | কবীর সুমন
কবীর সুমন, Kabir Suman

সুমনের গান যাঁরা শোনেন, তাদের অনেকের মনেই হয়ত একটা প্রশ্ন উঁকি মেরেছে। ‘তোমাকে চাই’-এর ‘তোমাকে’-টা কে? কাকে বলছেন সুমন? যার নামের সঙ্গে গানটি জড়িয়ে গেছে আষ্টেপৃষ্ঠে! কিন্তু ‘তোমাকে চাই’-এর প্রেক্ষাপট প্রেমের ছিল না একদমই। বরং সেখানে উঠে এসেছিল একাকিত্ব, বেঁচে থাকার চেষ্টা…

তোমাকে চাই এর ২৫ বছর পুর্তিতে কবীর সুমন লিখেছিলেন:

‘তোমাকে চাই।’

একটা গান। আবার একটা এলবাম।

কেউ কেউ ‘তোমাকে চাই’ এলবামটির পঁচিশতম বার্ষিকী উদযাপন করছেন। তাঁরা এবং বাকি সকলে জেনে রাখুন – গ্রামোফোন কম্পানি অফ ইণ্ডিয়ার ‘নব-প্রতিভা-সন্ধান’ বিভাগের প্রধান রবি কিচলু মহোদয় এবং গ্রামোফোন কম্পানি অফ ইণ্ডিয়ার মুম্বই অফিসের ঝা মহাশয় না থাকলে ‘তোমাকে চাই’ বেরোত না। আদৌ বেরোত না। এই এলবামটির প্রকাশ সম্ভব হয়েছিল দুজন অবাঙালির জন্য। বাঙালিরা, কম্পানির A &R বিভাগ সরাসরি বাধা দিয়েছিলেন। সে এক আশ্চর্য কাহিনী।

দেশ ও রাজ্য আমার কাছ থেকে অনেক কাজ আদায় করে নিতে পারত। কিন্তু তারা তা চায় না। আগে এসব নিয়ে ভাবতাম মাঝেমাঝে।

আমায় বাঁচিয়ে রেখেছে গুরুদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা। আমার নিয়মিত পরিশ্রম। প্রাত্যহিক রিয়াজ। মানুষদের থেকে নিজেকে তফাতে রাখা। আরও রিয়াজ। রিয়াজ। ভাবনা আর রিয়াজ। এটাই আমার ধর্ম। আর বাঁচিয়ে রেখেছে – – – –
ভালবাসা।

প্রতিটি মুহূর্তকে ভালবাসি আমি। তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করি।
ভালবাসি আমার অদ্ভূতভাবে গজিয়ে ওঠা পরিবারটাকে।
ভালবাসি – – – না, এখন আর বলব না।

“তোমাকে চাই” এলবাম এবং আমার বাঁধা আধুনিক বাংলা গান যদি কেউ সত্যিই ভালবেসে থাকেন তো তিনি যেন একবার হলেও মনে করেন জ্ঞান প্রকাশ ঘোষকে। হিমাংশু দত্তকে। রবিন চট্টোপাধ্যায়কে। নচিকেতা ঘোষকে। সুধীন দাশগুপ্তকে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে। বাংলার পল্লীসঙ্গীতকারদের। পঙ্কজ কুমার মল্লিককে। শ্যামল মিত্রকে। ——-
রবীন্দ্রনাথকে –
সুকুমার রায়কে। সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে। অবনীন্দ্রনাথকে।

মনে রাখবেন – আমার এক মা-এর নাম উমা। আর-এক মায়ের নাম জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ। তাঁর স্তন্যপান করেছি আমি। – আধুনিক গানের চিন্তাভাবনায়।

মনে রাখবেন আমি ভারতীয় সঙ্গীতের গোলাম।
মনে রাখবেন আমার খেয়াল গুরুর নাম কালিপদ দাস।
মনে রাখবেন আমার আর এক মা-এর নাম আমীর খান। তাঁরও স্তন্যপান করেছি আমি।
মনে রাখবেন – আমি ভাল আছি রাগসঙ্গীত, খেয়াল আর রবীন্দ্রনাথের কিছু গানের সংগে। মনে রাখবেন – ভাল থাকব, কারণ আমি সুরে থাকার জন্য রোজ লড়াই করি। মনে রাখবেন – বিচিত্র এই জীবনের সায়াহ্নে আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত।

I shall die a happy man.

খোদা হাফেজ –
কবীর সুমন
২১ এপ্রিল ২০১৭

Kabir Suman কবীর সুমন 30 তোমাকে চাই । তোমাকে চাই (১৯৯২) এ্যলবাম | কবীর সুমন
কবীর সুমন, Kabir Suman

তোমাকে চাই -এর বছর পঁচিশ পার, রাজপথে সন্তানরা

তোমাকে চাই -এর বছর পঁচিশ পার, রাজপথে সন্তানরা

সন্তান দলের মিছিল। না, রাম নারায়ণ রাম বা বাম নারায়ণ বাম কোনটাই নয়। গতকাল, ২৩শে এপ্রিল, ২০১৭ যে জমায়েতটা দেখল যাদবপুর এইটবি বাসস্ট্যান্ড তা সুমনের সন্তানদের। কবীর সুমন মানে যেমন কবীরের সন্তান, ঠিক তেমন এঁরাও প্রত্যেকে কবীর সুমনের সন্তান।

“তোমাকে চাই” নামক অ্যালবামের ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করতে দুপুর তিনটে-সাড়ে তিনটে নাগাদ এইটবি-তে জড়ো হয়ে পদযাত্রা করে বৈষ্ণবঘাটায় কবীরের বাড়ি অবধি যাওয়ার পরিকল্পনাটা ছিল নেহাত উপলক্ষ্য মাত্র। বা বলা ভাল ছুতো। হ্যাঁ ছুতোই, কারণ এই পথচলা কার্যত হয়ে উঠেছিল এবং হয়ে উঠতে চেয়েছিল বিগত আড়াই দশক ধরে সুমনের সৃষ্টি চেতনার, প্রকাশের এবং অভিব্যক্তির ‘স্তন্য পান করে’ সুঠাম হয়ে ওঠার সেলিব্রেশন (ক্ষমা করবেন, বারবার ‘উদযাপন’ শব্দটা লিখতে গিয়ে কেমন একটা বার-ব্রত মনে হচ্ছে, তাই ‘সেলিব্রেশন’)।

তোমাকে চাই এর বছর পঁচিশ পার রাজপথে সন্তানরা তোমাকে চাই । তোমাকে চাই (১৯৯২) এ্যলবাম | কবীর সুমন

 

সামনে, সুমনে সুসজ্জিত ট্যাবেলো। লাউড স্পিকারে বাজছে সুমনের গান। আর সেই গানই মুখে মুখে ফেরা মানুষের গান হয়ে উঠছে পেছনের মিছিলটায়। সকলের, সক্কলের উচ্চারণে-আস্ফালনে-দৃপ্ততায় তখন শুধুই সুমন। অধিকাংশের হাতে ধরা রয়েছে প্ল্যাকার্ড। সে প্ল্যাকার্ডেও সুমনেরই বাণী। হ্যাঁ, বাণীই। কবীর সুমন গানের ক্ষেত্রে ‘বাণী’র পরিবর্তে ‘কথা’ শব্দটিকে যতই পছন্দ করুন না কেন, তাঁর গানের ‘কথা’ সন্তানদের কাছে আক্ষরিক অর্থেই ‘বাণী’ হয়ে উঠেছে এই আড়াই দশকে। আর সেই বাণীই লেখা ছিল আকাশ পানে উঁচিয়ে ধরা প্ল্যাকার্ডগুলোতে।

গিটার তো ছিলই, একজনকে দেখা গেল মাউথ অর্গান মুখে। লহমায় মনে পড়ে যাচ্ছিল মঞ্চের কবীর সুমনকে। সেই চেনা দৃশ্য, দু’কাঁধ বেয়ে এগিয়ে আসা হোল্ডারে আটকানো মাউথ অর্গান, তিনি বাজাচ্ছেন-গাইছেন, আবার কখনও হোল্ডারটি খানিকটা নামিয়ে নিয়ে কথা বলছেন। এভাবেই চেনা চেনা পথ দিয়ে পায়ে পায়ে এগোচ্ছে মিছিল, পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো করে অগ্রভাগে নাচছেন হিয়া। পথের দু’ধারের মানুষের মুখে স্মিত হাসি, বিজেপি কর্মী বোঝাই আগন্তুক গাড়ির চোখে বিস্ময়! মিছিল চলেছে…সেই খানে হবে দেখা।

তোমাকে চাই -এর বছর পঁচিশ পার, রাজপথে সন্তানরা
তোমাকে চাই -এর বছর পঁচিশ পার, রাজপথে সন্তানরা

অবশেষে গন্তব্যে। দরজায় আছে নম্বর লেখা ১৯/জি। কবীর নিবাস। এবার যেন বাঁধ ভাঙল। সপ্তমে চড়ল গলা। সব আমাদের জন্যে। অবাক তিনি বেড়িয়ে এলেন বাড়ির অন্দর থেকে। শুরু হল “সাড়া দাও, সাড়া দাও…”। তিনিও উদাসীন থাকতে পারলেন না, সাড়া দিলেন সন্তানদের ডাকে। একের পর এক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। অপত্য স্নেহে আদরে চুমুতে ভরিয়ে দিলেন ঘেমে স্নান চকচকে মুখগুলোকে। তাঁর দুয়ারের সামনেই চেয়ার পেতে বাসানো হল তাঁকে। চারিদিকে সমবেত সন্তানরা, ফুলে-মিষ্টিতে এক পশলা কবীর সম্বর্ধনা, কেক কাটা। আর এসব আনুষ্ঠানিকতায় তিনি যেন কিঞ্চিত কুণ্ঠিত।

এদিকে আবার তিনি উতলা হয়ে উঠছেন ছেলেমেয়েদের গরম লাগায়, তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে যাওয়াতে। তবে সেসব দীর্ঘস্থায়ী হল না, সন্ততিদের সঙ্গে জুড়ে দিলেন খোশগল্প। অতীত-বর্তমান-প্রেম-প্রণয়-প্রতিবাদ-‘ইনকন্সিসটেন্সি’ এবং ‘কন্সিসট্যান্টলি’ সঙ্গীতের গোলামি, কথা ঘুরতে থাকল এই আবর্তেই। “তোমাকে চাই” রেডিওতে সম্প্রচারিত না হয়েও কীভাবে এই বিপুল জনপ্রিয়তা পেল তা নিয়ে গবেষণার প্রয়োজনের কথাও উল্লেখ করলেন কবীর। তবে এসবই ছিল আনুষাঙ্গিক, ২৩শের সন্ধ্যায় সুমনের মোকামটি ছিল অন্য গতে বাঁধা।

এই শুভদিনে সকলে যেমন এসেছেন ‘পিতার সদনে’, পিতাও তেমন তাঁর বলা সব কথার নির্যাস দিয়ে আসলে উত্তর প্রজন্মকে পথ চেনাতে চেয়েছেন। এই দুনিয়াকে তিনি যেভাবে চিনেছেন তার এক আঁজলা বিবরণ তিনি দিয়েছেন সন্তানদের। অবশেষে বলেছেন, প্রেমই বোধ হয় একমাত্র পারে এই দুনিয়াকে সঠিক পথ দেখাতে। নিজেকে বারংবার ‘প্রবলেমেটিক ইন্ডিভিজুয়্যাল’ হিসাবে চিনতে পারা এই সুমন তাঁর ছেলেমেয়েদেরকে দিয়ে যেতে চান বাঁচার সুমন্ত্রনা।

অস্ফুটে যেন বলে ওঠেন,

“প্রবলেমেটিক ইন্ডিভিজ্যুয়াল হয়ে ওঠ”

। রাস্তায় বসে সন্তান সন্ততিরা ঘিরে রয়েছেন তাঁকে, তিনি অনর্গল বলে চলেছেন…মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করছেন…হঠাৎ একটা ঠাট্টা শুনে হেসে উঠছেন…আর দূর থেকে থেকে গোটা দৃশ্যটা দেখে মনে হচ্ছে- ওই তো লক্ষ ছেলেমেয়ে নানি নাতনি দামাল, সবুজদ্বীপের মতো মাঝখানে…

 

আরও দেখুন:

You May Also Like

About the Author: Incharge SEO

2 Comments to “তোমাকে চাই । তোমাকে চাই (১৯৯২) এ্যলবাম | কবীর সুমন”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।