আফতাব এ সেতার উস্তাদ বিলায়েত খাঁ [ Ustad Vilayat Khan ]

ইমদাদখানি ঘরানার সেতার বাদক, আফতাবে সিতার উস্তাদ বিলায়েত খাঁ [ Ustad Vilayat Khan ] সাহেব এর পুরো নাম বিলায়েত হুসেন খাঁ। খা সাহেব জন্ম নেন ২৮ আগস্ট। তাকে নিয়ে তার ভক্তদের অনেক রকম আগ্রহ রয়েছে। তাদের জন্যই তার সম্পর্কে একটি তথ্যের সংগ্রহশালা তৈরির চেষ্টা করছি আমরা। যেখানে তার সম্পর্কে সকল তথ্য ও সাক্ষাৎকার সংগ্রহ করা হবে।

প্রথমে দেখা যাক উস্তাদ বিলায়েত খাঁ সাহেব তার আত্বজীবনিমূলক গ্রন্থ “কোমল গান্ধার” এ তিনি আমাদের যা যেভাবে জানিয়েছেন:

উস্তাদ বিলায়েত খাঁ তার “শেখা” নিয়ে যা বলেন :

বাবার কাছে শেখা? তা হলে বলি শুনুন, এই যে শেখা বা শেখানো— this is a very different technique যেটা আমাদের বাড়িতে আমরা করি। আমরা এখনকার গানের ইস্কুলের ধারায় তো গানবাজনা শিখিনি, শেখাই না…এখন তো পাবলিক প্লেসে লেডিজ বা জেন্টসের ইউরিনালের মতো কয়েক পা অন্তর অন্তর গানের ইস্কুল, সেটা আমাদের সময় ছিল না। আর সেসব স্কুলের কারবার তো বুঝতেই পারছেন… ছেলেমেয়েরা এল, মাস্টার বললেন, বোসো। এই রাগ ইয়াদ করো, আর এই তান ইয়াদ করে নাও, চলে যাও। পারলে না? আবার করে নাও, চলে যাও। ও সব আমাদের কালে ছিল না।

বাবার শেখানোর ধরন? period by period বাড়িতে গানবাজনা হচ্ছে, রেওয়াজ হচ্ছে। কিছু পালটা, কিছু টেকনিক বলে দিলেন, তাই নিয়ে কাজ হচ্ছে…তারপর যখন তালিম করতে বসলেন তখন আমাদের এখানে, বিশেষ করে তেহাই, তান, তাল, গৎ, আস্থায়ী, অন্তরা, রাগ, রং ওয়াতন…এটা তো শেখানো হয় না। সুরের যে জগৎ, ওয়াতন, রাজ্য, তার সঙ্গেই সব একটু একটু করে উঠে আসছে। আসলে মিউজিক শিখছি।

আফতাব এ সেতার উস্তাদ বিলায়েত খাঁ [ Ustad Vilayat Khan ]
আফতাব এ সেতার উস্তাদ বিলায়েত খাঁ [ Ustad Vilayat Khan ]
হঠাৎ শ্যামকল্যাণ বাজাচ্ছি। আর বাবা…উনি phrases সব কামোদের করছেন, জেনেশুনে। তখন যে ছাত্র, বাচ্চা, তার চোখ খুলে গেল কই, শ্যামকল্যাণ তো এভাবে শিখিনি। But you can’t question. যা বলছেন সেভাবেই কিছু করছি। তারপর হঠাৎ কিছুক্ষণ বাদে বললেন, ‘তুমি কি ভাবছ তুমি শ্যামকল্যাণ বাজাচ্ছ? না। এটা শ্যামকল্যাণ নয়। সেই রকম একটা সুর মিশে এমন একটা রাগ যে দাঁড়িয়ে আছে তার নাম কামোদ। এতক্ষণ অবধি যত কিছু বলেছি, সেটা কামোদের কাজ করেছি। এতক্ষণ অবধি একটাও শ্যামকল্যাণের কাজ করিনি। তা এই যে দশ-পনেরো মিনিট তুমি যা করেছ তার সঙ্গে গত দু-তিনদিন শ্যামকল্যাণের যা কাজ করেছ তার কিছু মিল এসে গেছে।

এবার তুমি ভাবো মিলটা কেন, কোথায়, কতটুকু আসছে। তুমি নিজে ভেবে আবিষ্কার করো, আমি কিছু বলব না। তখন ভাবতে শুরু করলাম। আর নিজে নিজে চিন্তা করে ঠিক বুঝতে পারা গেল কোথায় আর কেন মিলটা গড়ে উঠেছিল। তা এ হল আবিষ্কার, সঙ্গীত শিক্ষা, হৃদয় দিয়ে ভালবাসা, মন দিয়ে বোঝা। তা হলে আমাদের ঘরের শেখানোর যে ধারা দাঁড়াচ্ছে, তাতে যত যা তালিম হচ্ছে তার চেয়ে ঢের বেশি নিজের চিন্তাধারায়, বিচারে, উপলব্ধিতে পাওয়া হয়ে যাচ্ছে।

হাতে প্রথম কী রাগ তুলেছিলাম জীবনে সেটা খুব বেশি মনে নেই, তবে জীবনের প্রথম শেখা রাগরাগিণীর মধ্যে প্রধান হয়ে উঠেছিল কেদার। তারপর এসে গেল টোড়ি, ভৈরবী…ইত্যাদি। অর্থাৎ কোথাও একটা similarity যাদের মধ্যে থাকে। যেমন এক, কেদার হল। তা হলে আনন্দীও হয়ে গেল। আর আনন্দী হল তো শ্যামকল্যাণ হয়ে গেল। শ্যামকল্যাণ হয়ে গেল তো কামোদও হয়ে গেল।

আফতাব এ সেতার উস্তাদ বিলায়েত খাঁ [ Ustad Vilayat Khan ]
আফতাব এ সেতার উস্তাদ বিলায়েত খাঁ আড্ডায় [ Ustad Vilayat Khan ]
করতে করতে করতে তিনটে চারটে কি পাঁচটা রাগ যখন তাদের similarity তে ধরা দিতে লাগল তখন নিজেই দেখছি বিস্তার করবার সময়… এই যে একটু বিস্তার করছি এতে একটু কামোদের ছক এসে গেল, সেই বিস্তারটা ছেড়ে দিয়ে আবার শ্যামকল্যাণের মধ্যে কেমন করে এসে ঢুকব…এইভাবে এইভাবে এটা নিজেই হয়ে যায়। এই যে ভাব, এই বিস্তার, এই রং, এই যে মুড, এই atmosphere. এই রস…এই movement, এ সব typically শ্যামকল্যাণ, আর এই সব জিনিস typically কামোদ আ আ আ আ রে ন সা গা মধপরেসা / সা রে গা মধপরে সা–কামোদ হয়ে গেল। রে পদ্মপগ মরে ধপ রে সাশ্যামকল্যাণ হল। একটু এদিক বা ওদিক ঠেস দিয়ে গেলেই রাগটা বদলে গেল। একটা স্ট্রোকেই রাগটা অন্য চেহারা নিল।

রাগের রীতি ও চলনে movement-এর ওজনও কীভাবে কাজ করে যায়, তাও দেখার মতন। মুভমেন্টের weight একটা আলাদা জিনিস। আপনি বলছিলেন আমীর খাঁ সাহেব তাঁর সকালের রাগ ভটিহারে কীভাবে একটা মধ্যম লাগিয়েছেন যা সন্ধ্যার কেদারের মধ্যমকে মনে পড়ায়, সেখানেও movement-এর weight-এরও একটা ব্যাপার আছে। পম আছে; কিন্তু দেখতে হবে এই ধ প ম কীরকম আর ওই ধ প ম কীরকম। এটা খালি রেকর্ড শুনে নিয়ে বিলকুল নকল করে যাবার জিনিস নয়, আজকাল যেটা সারাক্ষণই হচ্ছে। টেপ রেকর্ডারই তো আজকের দিনের গুরু। ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে এরকম—আমি হচ্ছি বিলায়েত্ খান, কিন্তু আমার চেহারাটা বিষ্ণুদিগম্বরের মতোই। তা হলে আমি একটা illegitimate child নই তো আর কী।

আফতাব এ সেতার উস্তাদ বিলায়েত খাঁ [ Ustad Vilayat Khan ]
উস্তাদ বিলায়েত খাঁ [ Ustad Vilayat Khan ]
তো যা বলছিলাম.. বাজাচ্ছি, বাজাচ্ছি কোথাও একটা এমন সুর লাগালাম রাগের যে একটা গোটা জগৎ খুলে গেল চিন্তার আর অনুভূতির–গুরুর কাছে বসে শিক্ষা করে এই জিনিসটা যদি পাওয়া না হয় তাহলে আমি শিখলামই কী, শোনাবই বা কী, আর শেখারই বা কী। বাবা তো গুরু আছেনই আমার… ওয়াহিদ খাঁ সাহেব আমার বাবার ছোট ভাই, সেতার বাজাতেন, তিনিও আমার শুরু হন।

জিন্দে হুসেন খাঁ সাহেব, বন্দে হুসেন খাঁ সাহেব, মামা আর দাদু, এঁরাও আমার গুরু। এই চারজনই আমার প্রধান শুরু। তবে এঁরা ছাড়াও আমার কত যে গুরু আছেন। আজকে আপনি যাঁরই নাম করুন, বড় বড় পণ্ডিত আর খাঁ সাহেবদের তাঁদের সব্বাই আমার গুরু। আর আমি কী বলব, আমার বাবাই বলে গিয়েছেন, ‘বেটা, সারি দুনিয়া কে উস্তাদকো অপনে পিতাকে ইজ্জত দোগে তো ম্যায় তুমহারে ইজ্জত করুঙ্গা মরনে কা বাদ ভি নহি তো তুম অচ্ছে শাগরেদ অউর অচ্ছে আর্টিস্ট কভি ভি নহি বনোগে।’

আর আজকে সবাই গুরু মানতে গেলেই লজ্জা পায়। তবে আরও বেশি তাদের যে fall down হয়েছে তা হল তুমি মানছ না অথচ সারা দুনিয়া বলছে যে তুমি ওঁর ছাত্র। তা হলে আর কী বলা যায়, বলুন? কত আর হিসেব রাখবেন কতজন যে আমার কত কিছু নিয়ে বাজিয়ে নিচ্ছে। সবাই বুঝছে, সবাই দেখছে, মানুষ যা জানবার জেনে যাচ্ছে।

আল্লাকে ধন্যবাদ, যদিও আমি সোনা-চাঁদির চামচ মুখে নিয়ে জন্মেছিলাম পরে আমাকে যেতে হয়েছে বহু কষ্ট-দুঃখের মধ্যে দিয়ে। তিন টাকায় সারা রাত সেতার বাজিয়েছি। সেটাও হয়েছে। সে অনুষ্ঠান? Near Saharanpur. ওই থেকে আজ অবধি, আমি খুব গর্বিতও সে জন্য, যে যত বড় বড় উদ্ভাদ আর পণ্ডিত ছিলেন বা আছেন তাঁদের থেকে পঞ্চাশ হাজার কি এক লক্ষ টাকা বেশি দাবি করে এসেছি এবং পেয়েছি।

আমার principle -ই ছিল যে, যা fees কোনও বড় যন্ত্রী বা গায়ক নিচ্ছেন তার থেকে অন্তত পঞ্চাশ হাজার বেশি নেব। তা যদি দিতে পার তো দাও, না হলে যাও। অনেকেই গানবাজনা করছে, আমাকে বাদ দিয়েও তোমার চলে যাবে। তবে এও জেনে যাও যে তোমাকে ছাড়াও আমার পেট ঠিক ভরে যাবে। শিক্ষা আর গুরুর কথায় আসি ফের। বাবা যখন মারা গেলেন আমার বয়স তখন দশ

আফতাব এ সেতার উস্তাদ বিলায়েত খাঁ [ Ustad Vilayat Khan ]
উস্তাদ বিলায়েত খাঁ [ Ustad Vilayat Khan ]
১৯৩৮-এ, ১১ নভেম্বর। আর তখন থেকে একলা চালাতে হল। একলা মানে আমি তো নিশ্চয়ই এখনও একাই বোধ করি। তবে গানবাজনার যে atmosphere-এ তখন আমি, বাবার মৃত্যুর পর, সেখানে আমি একলা নই। আমার কাকা, মামা, দাদু একেবারে ভেঁকে বসে গিয়েছিলেন। ওঁদের অনুভব হল যে পরিবারের মধ্যে এই এক, hopefully, অপূর্ব জিনিয়াস আছে, ফলে আমাকে প্রাণপণে ধরে বসে গিয়েছিলেন সবাই। একেবারে টাইট করে বেঁধে ফেলেছিলেন আমায়। না হলে বাবার চলে যাবার পরে আমার রেওয়াজ বাড়াতে বাড়াতে। চোদ্দো ঘন্টায় নিয়ে ফেলেন ওরা। চোদ্দো ঘন্টার রেওয়াজ কি হয়?

তো এক দিকে আমার মামা, পাশাপাশি আমার দাদু আমার পিছনে পড়ে গেলেন। বললেন, খাওয়াদাওয়া ছাড়া তোমায় আর কিছু করতে হবে না, তোমার ওই একটাই কাজ— রেওয়াজ। শুধু ওইটাই করো। মামা গান করতেন, আর রেওয়াজ করাতেন। দাদু শেখাতেন খেয়াল, আস্থায়ী, ঠুংরি, দাদরা, ধ্রুপদ, ধামার, তারানা, সাদরা এই সব। মামা রেওয়াজ করাতেন। আর ওদিকে হায়দরাবাদ থেকে প্রত্যেক মাসে এসে আটদিন থাকতেন দিল্লিতে আমার কাকা ওয়াহিদ খাঁ সাহেব, তিনি সুরবাহার শেখাতেন। কাজেই আমার তালিমটা…কী বলব, বুঝতেই পারছেন কোন্ ধারায় চলছিল।

আচ্ছা, তারপর এরকম হল কি রেডিও স্টেশনে ছিলাম আমি, স্টাফ আর্টিস্ট ছিলাম, ওই পিড়িং পাড়াং সেতার বাজাতাম, একশো টাকা মাইনে পেতাম। হিন্দুস্তানের বড়র থেকে বড় সব গাইয়ে-বাজিয়ে আসতেন দিল্লিতে, ওঁদের গান শুনতে পাওয়া যেত, সেতার শুনতে পাওয়া যেত, হিন্দুস্তান-পাকিস্তান কিছু ছিল না, মুলতান থেকেও উদ্ভাদরা আসতেন, পঞ্জাব থেকে আসতেন, দিল্লি তখন huge station, আর ক-ত, ক-ত গুণী লোকই যে ওখানে এসে পড়ছেন নানা দিক থেকে। এই ব্যাকগ্রাউন্ড আমার খুব কাজে এল সেই সময়। কোনও পার্টিবন্দি ছিল না, এখনকার মতো এই আর্টিস্টকে নামাও, ওকে তোলো, ওকে ঠেলো, ওকে care করো, ওকে ছোঁবে না— এ সব তখন আমাদের সময় ছিল না, যা এখন ভয়ানক বেশি হয়ে গেছে।

উস্তাদ বিলায়েত খাঁ তার বাজনার “অঙ্গ” নিয়ে যা বলেন :

আফতাব এ সেতার উস্তাদ বিলায়েত খাঁ [ Ustad Vilayat Khan ]
উস্তাদ বিলায়েত খাঁ [ Ustad Vilayat Khan ]
তন্ত্রকারী আর গায়কির মিলনে আমার যে রাজনার কথা এইমাত্র বললে তুমি…এখন থেকে তোমাকে ‘তুমি’ করেই বলছি, আর আপনি-আপনি’ করছি না, এতকাল ধরে চিনি-জানি হ্যাঁ, হ্যাঁ তুমিই তো বলতাম, বয়সে এত ছোট, তোমরাই তো বলবে, তন্ত্রকারী আর গায়কির যে অঙ্গমিলন তা তো আমার সেতারই বলে দিচ্ছে, সারা জগৎ বলছে, আমার নিজের মুখে বলতে হয়নি। তা হলে ব্যাপারটা বলি?

এই যে গায়কি অঙ্গ, কারও কারও ধারণা, আমার ঠাকুরদা ইমদাদ খাঁ সাহেবের তৈরি। না। ইমদাদ খাঁ সাহেবের ছিল ধ্রুপদ অঙ্গের, তন্ত্র অঙ্গের সুরবাহার। তারপর তন্ত্র অঙ্গের গৎ তোড়া। যেটা সেতারের অঙ্গ ছিল। তারপর এনায়েত্ খাঁ সাহেবের মধ্যে এল সাপাট তান। তেহাইয়ের বাজ। এ সব হল আবিষ্কার, এনায়েত্ সাহেবের।

তারপর ধরো পেশকারা—সেটা জেতানৎ খাঁ সাহেবের, তরল্লে খাঁ সাহেব, কালে খাঁ সাহেব, মিঞা বক্স খাঁ সাহেব, আর…কল্লু হফিজ, ভৈরোঁ মহারাজ, গুণীদের সব তবলা। পূর্বী বাজ, ফরক্কাবাদি বাজ, দিল্লি বাজ। এই যে পেশকারা বাজ তবলার, সেই জিনিসটাই সেভারে তুলেছিলেন এনায়েত্ খাঁ সাহেব। আর গং তোড়ার বাজ, ডড়াড় সেতারের মধ্যে একটা আবিষ্কারের মতো হয়ে গেল। ভড়া ড়া ড়া-র মধ্যে ডড়া—ড়…একটা half quarter মাত্রা টেনে নামালেন।

ইমদাদ খাঁ সাহেবের, তাঁর আগে সাহাবদাৎ খাঁ সাহেবের, পরে এনায়েত্ খাঁ সাহেবের, ওয়াহিদ খাঁ সাহেবের এত অবদান আছে instrument-এর দুনিয়ায়, যে আজকে লোকে যদি তা ভুলেও যায় তাতে সত্যি কিছু এসে যায় না। বিশেষ করে বাংলা দেশটা তো সারাজীবন সারা history ধরে মনে রাখবে এনায়েত্ খাঁ সাহেবের দান। এনায়েত্ খাঁ সাহেবের দান, বাদল খা সাহেবের দান, তবলার মসীৎ খাঁ সাহেবের দান।

কিন্তু এই সব জিনিয়াসদের পর আমারও একটা ছোট্ট অবদান আছে Thank God! সেটা হল সেতারকে একদম গলা করে দেওয়া। এটাও হয়েছে আমার দাদু আর মামার জন্য। যেহেতু… আমার মামা হলেন জিন্দে হসেন খাঁ সাহেব, উনি আমার ঠাকুরদাদাকে শুনেছেন ছোটবেলায়, এনায়েত্ খাঁ সাহেবকে শুনলেন সারাজীবন, ওয়াহিদ খাঁ সাহেবকে শুনলেন তো এ দিকে সেতার, তন্ত্রও জানতেন, আর আমার সঙ্গে গান করে আমায় বসাতেন।

কাজেই ওই গান শুনতে শুনতে শুনতে শুনতে, আর খেয়াল, আস্থায়ী, ধ্রুপদ, ধামার এইসব জিনিস শুনতে শুনতে অনেক জিনিস ভেতরে ভেতরে ফুলের মতো ফুটতে লাগল। যেহেতু by early 1950-তে সেতারের ভেতর থেকে অনেকগুলো কাজ বেরচ্ছে না দেখলাম, তাই একটা জুড়ির তার বার করে দিলাম, একটা জুড়ি রাখলাম। তখন ছ তার হয়ে গেল। সেই ছ তারের সেতার অনেকদিন বাজালাম।

একটা brass পঞ্চম একটু বেশি তান, আর বল, আর তনেহতির জন্য বেশি ব্যবহার হত। আমি সেটাও বার করে দিলাম। ফলে একটা জুড়ি, একটা পঞ্চম, একটা চিকারি, একটা ছোট চিকারি, একটা মধ্যম—এই পাঁচ তার হয়ে গেল। পাঁচ তারের মধ্যে কিছুদিন, ছ মাস, বছরখানেক ধরে নতুন development হতে লাগল। একটু একটু করে, আস্তে আস্তে, ছ মাস, এক বছর কি আরেকটু সময় নিয়ে। ব্যাপারটা যেন একটু করে আসছে, ভেতরে ভেতরে।

By that time I have already come to Bombay. I had left Delhi, established myself quite a bit professionally. প্রোগ্রাম-ট্রোগ্রাম তো করছি। কিন্তু যা তালিম পেয়েছি গানের আর সেতারের তাই নিয়ে খুঁজে যাচ্ছি রাস্তা, মনের মধ্যে। আর দেখছি তিন-চার সুরের মিড়ের থেকে বেশি কেউ বাড়ছে না। কিন্তু আ আ আ আ আ আ আ আ আ আ এইসব জিনিস কেউ করছে না। কাজেই পুরো স্ট্রাকচারের ওপর আস্তে আস্তে বিবর্তন ঘটিয়ে ঘটিয়ে সেতারকে অন্যভাবে মেলে ধরলাম… by 64-65 practically সেতারের চেহারাটাই বদলে গেল।

সেতার দেখতে গেলে ঠিক ওইরকমই আছে, কিন্তু আমার বাবার হাতের সেতার আর আমার হাতের সেতার অর্থাৎ আগেকার সেতার আর আজকের সেতারের মধ্যে measurement, তবলি, তোম্বা, ডান, মিড়, তার গেহনি, জোয়ারি, তাল, ব্রিজ, জোয়ারি ফাইলিং, স্ট্রোক, সব বদলে গেছে। গোটা প্যানোরামাই বদলে গেছে। একটা historical change এসে গেল। যার মধ্যে হীরেন (রায়) আর ভিকিরামের প্রচুর কাজ আছে।

একজন দিল্লির–ভিকিরাম, আরেকজন কলকাতার—–হীরেন। খুবই দুঃখের সঙ্গে বলছি ভাই যে, হীরেন মারা যাবার পরে সেতার কিন্তু খুব খারাপ তৈরি হচ্ছে। যত উঁচুতে সেতার বানানোর রীতিকে নিয়ে গিয়েছিল হীরেনদা সেখান থেকে এখনকার কারিগরদের হাতে সেতারের কাজ অনেক নেমে গেছে। ভাল হচ্ছে না। কেউ বুঝছে না যে Sitar making আর Sitar playing এটা একদিনের কাজ না। এ নিয়ে পড়েই থাকতে হয়। সারা জীবনের শিল্প এটা, requires all your love and concentration. The ultimate ayat Khan Sahab কবে তৈরি হলেন? হাঃ হাঃ হাঃ। কী উত্তর দিই

বলো তো? শিল্পী বিলায়েতের কথা যদি বলো, মন আর মানুষ সে তো আজও তৈরি হচ্ছে। আর perfect playing…complete performer, বাজ মেজাজ আর সৌন্দর্যের মিলনে যে শিল্পী পৃথিবীকে একটা নতুন সুর আর সঙ্গীতের ছবি দিয়েছে সেই বিলায়েত্ খান বেরিয়ে এসেছে early sixties-এ। ষাট সালই ধরো না কেন।

তুমি তো আমার সম্ভবত ’62 -এর তিলক কামোদ এল পি শুনেছ। তার কত আগে থেকেই তো আমি রেকর্ড করছি। তুমি যদি পূর্বদিনের সেই সব রেকর্ড শোনো আর ’62 onwards আমার রেকর্ড শোনো তো নিজেই বুঝে যাবে আগের থেকে সেতারে কত কী যে বদলে বদলে বিলকুল নতুন হয়ে গেছে। আমার বাজনা অনুসরণ করো ১৯৩৬ থেকে সিক্সটিজের রেকর্ডিং অব্দি, দেখবে সেতারের জীবনে কী ঘটে যাচ্ছে। আমার নিজের মুখে বলার দরকারই নেই, সবই তো বাজনায় ধরা আছে।

উস্তাদ বিলায়েত খাঁ তার জীবনে “গান” নিয়ে যা বলেন :

এই যে বললেন যে আমার সিক্সটি-টু’তে করা এল-পি শুনে মনে হয়েছে গান বাজছে, এই সুরের ধারাটা কিন্তু আস্তে আস্তে, দীর্ঘ দিনের চেষ্টায়, পরীক্ষায়, ডেভেলপমেন্টে আমার সেতারে এসেছে। This change went on coming over long long years, change এর মাধ্যমে এই যে ডেভেলপমেন্ট সেটা আরও ডেভেলপড হয়েছে, পরে আরও ডেভেলপড হয়েছে, just because behind this there is a great reason. কারণ জীবনে যা-ই করছেন, বিজনেস করছেন, চাকরি করছেন, শিল্প করছেন আপনাকে তো তার মধ্যেই গড়ে নিতে হচ্ছে নিজেকে।

যতই তাতে জড়াচ্ছেন আর তাতেই ডুবে যাচ্ছেন, আপনার জীবনের রিফ্লেকশনও হচ্ছে ওতে, আপনার জীবনও বদলাচ্ছে, কাজও বদলাচ্ছে, যাকে লোকে বলছে ডেভেলপমেন্ট। শিল্পী তো চেঞ্জ করে, ডেভেলপ করেই বেঁচে থাকে, great হয়। জীবনের প্রতিটি বাঁকেই একটা পরীক্ষা। খুব গভীর পরীক্ষা, জানেন। এটা এমন নয় যে বি-এ, এম-এ ইত্যাদি পাশ দিয়ে বইটা বন্ধ করে দিলেন, যেন পাশ দিয়েই সব হয়ে গেল, ঢুকে গেলাম চাকরির জীবনে। না। সঙ্গীত হল প্রত্যেক দিন একটা পরীক্ষায় বসা। একটা হল তো আর একটা তো ফের নতুন একটা.. চলল।

কলামন্দিরে early 69 -এর সেই যুগলবন্দির কথা বললেন? আ হা হা! আলি আকবর খাঁ সাহেবের সঙ্গে। ও বাজনা কোনও দিন হবে না। তা আলি আকবর খাঁ সাহেব যে কী একটা great মানুষ জন্মেছেন আহা! ওই মানুষ কি আর কখনও হবে? আর এও ভাবি যে কত্তো বড় একটা মানুষকে আমরা নানান কারণে দূরে সরিয়ে দিয়েছি বাক্স বন্ধ করে রেখেছি…মনের থেকে বার করে ফেলে দিয়েছি…এইসব ভাবি আর ব্যথায় মরে যাই। এই এক আলি আকবর খাঁ যে জন্মেছেন সরোদের মধ্যে, এ তো আল্লার আশীর্বাদ। তারপর ধরুন বিসমিল্লা খান। The world is so different and so beautiful because of them.

তারের যন্ত্রকে গলার এত কাছে যে আনা গেল তাতে আলি আকবর খাঁর আর এই আমার কাজ যে কত তা পৃথিবী কি বোঝে না? এসব তো আজ সব্বাই বলছে, বলছে না কি?

তবে দেখো একটা জিনিস…হাঁড়িতে না থাকলে তা চামচে কী করে আসবে? খেয়াল আস্থায়ী… গানের তালিমটা হওয়া খুব দরকার। তন্ত্রকারের জন্যও গানের তালিমটা খুব বেশি দরকার। তা না হলে যতই কপি করে নাও— গায়কি, vocal ঢঙে একটা আবছা আবছা, খাপছাড়া ভাব আসবেই আসবে। আসলে যন্ত্রের ভেতর দিয়ে গাইতে হবে। কপি করে এটা হয় না।

উস্তাদ বিলায়েত খাঁ তার জীবনে “মা ও বাবা” নিয়ে যা বলেন :

কী বলছ কী, আমার গায়ক হবার ইচ্ছে হয়নি? কত যে গান করেছি, হায় হায়। এত বেশি আমার গানের পিছনে ঝোঁক হয়ে গিয়েছিল যে প্রচুর রেকর্ডিং করে বসেছিলাম গানের। জানি না দিল্লির আর্কাইভসে এখনও সে সব রেকর্ডিংস ওরা রেখেছে কিনা, নাকি হারিয়ে দিয়েছে, যা ওরা করেই থাকে সাধারণত অনেক দিন আমি গানের প্রোগ্রামও করতাম…

তারপর একটা সময় এল যখন আমার মা, আমার মনে আছে তানসেন, ওই যে শৈলেনবাবুর কনফারেন্স, সেখানে গানবাজনা করে এলাম মহাজাতি সদন থেকে তিনটে চারটা পাঁচটা কিছু একটা হবে ভোররাতের দিকে, এসে বসেছিলাম মা-জির কাছে, মা-জিকে খুব খুশিই দেখলাম…বসে আছি, বসে আছি, বসে আছি, হঠাৎ মা-জি আমাকে বললেন,

‘আচ্ছা মিঞা (বাড়ির নাম আমার মিঞা খাঁ), এক বাত বোলু?’ বললাম, ‘হাঁ, বোলিয়ে মা-জি।’ বললেন, ‘গরসে শুনেগা?’ বললাম, নহি, নহি, । বোলিয়ে মা-জি’। বললেন, “দেখো, বহুত গরসে শুনো মেরি বার্তে…! বললাম, বোলিয়ে ন মা জি যো কহনা হ্যায়। বললেন, ‘তু গানা ছোড় দে।

আর তুড়ুং করে আমার মনের ভেতর বেজে উঠল কথাটা, ভাবলাম মা আমাকে গান ছেড়ে দিতে বলছেন। মা এমনি বলছেন কেন! বুঝতেও পারলাম না মা এরকম বলছেনই বা কেন। আমি গানের জন্য গান গেয়ে গেয়ে আর সেতার বাজিয়ে প্রাণ দিচ্ছি, আর সেই গান গাইতেই মানা করে দিচ্ছেন মা। কিন্তু কথাটা যেহেতু মায়ের, আমি সেই থেকে গান করা কম করে দিলাম। বাজাতে গিয়ে কখনও যদি দরকার পড়ল তো গেয়ে শুনিয়ে দিলাম একটু।

উদ্দেশ্য মানুষকে ধরিয়ে দেওয়া যে এই গান যে আমি করছি এটাই আপনারা শুনছেন সেতারের ভাষায়। অর্থাৎ গানকে সেই থেকে আমি secondary করে দিলাম। তা না হলে গানের ওপর আমার অনেক বেশি ঝোঁক ছিল শুরুতে। মা-জির নির্দেশে গান থেকে এই সরে আসাটা ঘটল late forties, early fifties-এ। যদ্দুর মনে পড়ে পঞ্চাশ সালের গোড়াতেই এটা ঘটল।

মা-ই আমাকে সব থেকে বেশি guide করতেন রেওয়াজে। তোমরাও এটা শুনে এসেছ বরাবর, আর এটা খুবই সত্যি। উনি তো আমার দাদুকে শুনেছেন, আমার বাবাকে শুনেছেন, আর তখনকার যত বড় বড় গুণী উস্তাদরা তাঁরা আমাদের বাড়ি আসতেন, খেতেন, থাকতেন, গানবাজনা করতেন, ফলে তাঁদেরও জি-ভরে শুনেছেন, আর সেই সব জিনিস তিনি যা মাথায় নিয়েছিলেন তাই আমাকে গেয়ে শোনাতেন, সেই সব খেয়াল আস্থায়ী।

তারপর আমি তো হাফপ্যান্ট, টাফ প্যান্ট পরতাম ছোটবেলায় তো উনি টেবল ফ্যানের তারটা হাতে রাখতেন…যেই ঘুমটুমে ঢলে পড়তাম উনি এমনি করে গায়ে ছুইয়ে দিতেন, আর আমি চমকে জেগে উঠে ফের রেওয়াজ চালু করতাম। সেই কথাটাই কয় বছর আগে ফের একদিন রাত্তিরের সময় আবার বললেন যে, তুমি জানো তোমায় একদিন বলেছিলাম কি তুমি গান বন্ধ করে দাও?’

বললাম, ‘হাঁ, মা-জি, মনে আছে।’ তখন মা বললেন, ‘আরে পাগলে, ম্যায় বন্দে হুসেন খাঁ-কি বেটি হুঁ, অউর ইমদাদ খাঁ-কি বহু, ইনায়ৎ খাঁ-কি বিবি। কোই দুসরি অউরত হোতি তো তুঝকো শ্বশুরালসে ছুড়াকে অপনি মা-বাপকি তরফ লে যাতি; মগর মেরি loyalty ইনায়ৎ খাঁ-কি তরফ হ্যায়। ম্যায় গওয়াইয়া চাহতি নহি, ম্যায় সিতারিয়া চাহতি।

… কী বলব ভাই, এত বড় মহিলা জন্মাবেন না বেশি। আমার মায়ের মধ্যে কী দরদ, কী প্রেম স্বামীর ঘরের শিল্পের প্রতি! নাইনটিন সেভেন্টি-এইটে এই মা আমার দেহ রাখলেন। আল্লার অশেষ কৃপা যে মা আমাকে in my best form, at my height দেখে গেছেন। … লেজেন্ড? সে তুমি, তোমরা যাঁকে লেজেন্ড বলছ সেই বিলায়েৎ খানকে উনি দেখে গেছেন।

মা কী ছিলেন আমার কাছে? Oh, so many things! মা, বাপ, শুরু, বন্ধু অনেক কিছু। ছোটবেলায় খুব বকাঝকাও খেয়েছি মার কাছে। পরে যখন বড় হয়েছি she was very proud of me. খুব সুখীই ছিলেন সেদিক দিয়ে বলতে পার। সবসময় বলতেনও যেখানে যখনই কথা উঠেছে, এক ছিলেন এনায়েত্ খাঁ, আর এক এই বিলায়েত্ খাঁ।’

আর এই যে জিজ্ঞেস করছ, মার চোখে কে বড় সেতারি ছিলেন, বাবা না আমি, এইটা আমি বলতে পারব না। কারণ, জানি না। দুজনের তুলনা করে কিছু তো বলেননি। তবে আমার ব্যাপারে উনি ভীষণ গর্বিত ছিলেন বরাবর, আর সেটাই আমাকে খুব সুখী করত। তবে এইখানে একটা কথা বলি শঙ্করবাবু, মা আমাদের কাকে বড় শিল্পী ভাবতেন বলতে পারছি না, তবে আমার মতামতটা তোমাকে নিশ্চয়ই বলে দিতে পারি।

সেটা হল এই (যদিও অনেক চেষ্টা করেও মানুষকে convince করতে পারলাম না) যে I am not greater than my father. যে রকম তিন মিনিটের রেকর্ডের মধ্যে ভৈরবের ঋষভ লাগিয়েছেন সুরবাহারে, যেরকম সেতারে ভৈরবীর মধ্যে সাপটি টেনে নিয়েছেন, খাম্বাজের বাজনায় যেরকম সুন্দর করে আস্থায়ীর মধ্যে ড্রড়াই লাগিয়েছেন, সুরবাহারের বাগেশ্রীতে তিন মিনিটের মধ্যে দু’ঘন্টার রস বইয়ে দিয়েছেন, এ তো আজ পর্যন্ত অপূর্ব কীর্তি হয়ে থেকে গেছে।

এসব অদ্ভুত রেকর্ড যা গাইয়ে বাজিয়ে যাঁরা কিংবা গানবাজনার বেশ ভিতরে ঢুকেছেন যাঁরা, তাঁরাই বুঝতে পারবেন। বাইরের লোক এসব ধরতে পারবেন না। তা ছাড়া পাঁচ থেকে দশ বছর বয়স অবধি আমি ওঁর প্রায় একশোটা বাজনা শুনেছি। দেখেছি, এমন কোনও তবলাবাদক নেই যার লয় খারাপ করে দিতেন না। এমন কোনও গাইয়ে নেই যিনি কিনা এনায়েত্ থাকে supreme master ভাবেননি।

ফৈয়াজ বাঁ সাহেব বলেছেন, আবদুল করিম খাঁ সাহেব বলেছেন, আলাদিয়া খাঁ সাহেব বলেছেন, বেহেরে ওয়াহিদ খাঁ সাহেব বলেছেন, তবে আমি সেটা জানি না কি ভাবতেও পারি না আমার মা আমাকে আমার বাবার চেয়েও বড় শিল্পী ভেবেছেন কি না। তবে একজন গাইয়ে বাজিয়ে হওয়ার সুবাদে এইটা অন্তত আমি জোর গলায় বলে দিতে পারব যে, এনায়েত্ খাঁ সাহেবের

মতো একজন supreme artiste জন্মাবে না। এনায়েত্ খাঁ সাহেবের তিন মিনিটের খাম্বাজের মতো খাম্বাজ বিলায়েৎ খাঁ কি বাজাতে পারবেন তিন মিনিটে? – এই তো তোমার প্রশ্ন? আমার জবাব হচ্ছে যে, বিলায়েৎ খাঁর তিন মিনিটের খাম্বাজ অনেক বেশি, অনেক অন্যরকম হবে, কিন্তু সেই খাম্বাজ হবে না।

আবদুল করিম খাঁ সাহেবের রেকর্ডে ঝিঝোটি, ভৈরবী কি বসন্ত যা তিন মিনিটে দাঁড়িয়ে গেছে, তাতে যা তান টেনেছেন এখানে-ওখানে তা কি এতকাল ধরে গাইয়ে বাজিয়েরা তিন ঘন্টার গানবাজনায় আনতে পেরেছেন? গলা বা হাত থেকে কেন আর কেউ ওটা বার করতে পারল না বলো? এই সব ব্যাপার মানুষ ভুলে যায়, হয়তো জানেই না কোথায় কী কাজ মহাপুরুষরা করে গেছেন।

You May Also Like

About the Author: নটরাজ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।